পঞ্চগড়ে বল বাড়িতে পড়াকে কেন্দ্র করে মারধর, আহত ৩ স্কুলশিক্ষার্থী

মো. মাহাবুব আলম , ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি পঞ্চগড়

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলার জালাসি এলাকায় ফুটবল খেলতে গিয়ে বল পাশের একটি বাড়িতে পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, বাড়ির মালিকের মারধর ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে এসব শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলো বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজওয়ান খান অপূর্ব ও মিম হোসেন এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওহীদ হাসান আশিক। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টিফিন বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে বলটি বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বাড়িতে গিয়ে পড়ে। এ সময় বাড়ির মালিক জয়তুন বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়।

শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা জান্নাতুল পারভীন বলেন, টিফিনের সময় শিশুরা মাঠে খেলাধুলা করছিল। বলটি পাশের বাড়িতে যাওয়ার পর ওই নারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন বলে তারা জানিয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

আহত শিক্ষার্থী তাওহীদ হাসান আশিকের বড় ভাই আবির বলেন, শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হতে পারে। আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ বিচার দাবি করছি।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে জয়তুন বেগমের স্বামী হাসান আলি বলেন, ফুটবলটি আমাদের রান্নাঘরে গিয়ে পড়েছিল। এতে আমার স্ত্রী রাগান্বিত হয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত একটি লাঠি দিয়ে শিশুদের আঘাত করেছে বলে আমাকে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

Link copied!