থানায় রক্ষা পেলেও ডিসি অফিসে হামলার শিকার মাহাদী

মোঃ উজ্জ্বল আহমেদ , হবিগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

ছাত্রদলের হাতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেদম মার খেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে তার ওপর অতর্কিত হামলা করে।

ভুক্তভোগী মাহাদীর অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর এই হামলা ও মারধর চালিয়েছেন। ঘটনাটি জানাজানি হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর, যেখানে মাহাদীকে ডিসি অফিসের ভেতরে হামলার শিকার হতে দেখা যায়।

এর আগে, বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে মাহাদী দাবি করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁর ওপর হামলার উদ্দেশ্যে তাড়া করছে এবং তিনি চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন । জীবন বাঁচাতে তিনি এক সঙ্গীকে নিয়ে রিকশায় করে দ্রুত হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে ছোটেন এবং থানা চত্বরে প্রবেশ করে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চান।

লাইভে মাহাদী বলেন, “ছাত্রদল আমার ওপর আক্রমণ করতে আসছে আমার কি নিজ কোনো মতামত বা পার্সোনাল অধিকার নাই। পরবর্তীতে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষ থেকে দেওয়া অপর এক লাইভে তিনি জানান, তাঁর একটি ড্রাইভিং পরীক্ষা থাকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এসেছিলেন। সংশ্লিষ্টরা তাঁকে আশ্বস্ত করলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং তিনি হামলার শিকার হন।

এদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার জেরে মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরোধ চলছিল তবে ওসির দাবি, হামলার অভিযোগ সংক্রান্ত ভিডিওতে ছাত্রদলের কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি এবং মাহাদীও কাউকে দেখাতে পারেননি।

বর্তমানে মাহাদী থানায় অবস্থান করছেন এবং পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি এক যুবককে ছাড়াতে থানায় গিয়ে পুলিশের সামনে দম্ভোক্তি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই মাহাদী হাসান সে সময় ওসির কক্ষে বসে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। সেই ঘটনার পর ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন তিনি।

অতীত বিতর্কের ৫ মাসের মাথায় এবার নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেই পুলিশের কাছেই তাঁকে মৌখিক অভিযোগ দিয়ে আশ্রয় নিতে হলো।

 

Link copied!