আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করেন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা সমীচীন হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশবাসীর মতো তিনিও গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হলেও, এর জেরে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নয় বলে তিনি মনে করেন।
জামায়াত আমির বলেন, কোনো অবহেলা, ত্রুটি বা অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা নিরূপণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তদন্তের আগেই পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া জনস্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘গরিবের হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিত আদ-দ্বীন হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ জনগণই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে কয়েকশ শিক্ষার্থী চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ করছে। পাশাপাশি নার্সিং শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
শিক্ষার্থী ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের প্রতি লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়াই সমাধান হতে পারে না।
আপনার মতামত লিখুন :