অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর রোডম্যাপ হতে পারে নতুন বাজেট: সিপিডি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন সরকারের প্রথম বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে, যখন দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মন্থর প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং দুর্বল ব্যাংকিং খাত অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। যদিও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও জ্বালানি সংকট এখনও বড় উদ্বেগের বিষয়।

তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বাজেটকে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজেটের মূল দর্শন মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বাজেটের বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে মিল লক্ষ্য করা যায়।

তবে সংস্থাটি মনে করে, বাজেটের সাফল্য এর আকারের চেয়ে বাস্তবায়নের গুণগত মানের ওপর বেশি নির্ভরশীল। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হয়নি।

সিপিডি বলছে, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি। এমন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন, যা শুধু বাজেট বাস্তবায়নই নয়, জনগণের কাছে দৃশ্যমান সুফলও পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বাজেট নতুন সরকারের জন্য এক ধরনের পরীক্ষাও বটে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় সুযোগ।

সিপিডির মতে, সরকার যদি বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঘোষিত কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও টেকসই, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Advertisement

Link copied!