শহরের প্রধান সড়ক, ব্যস্ত মোড় কিংবা অলিগলির ফুটপাত—এসব স্থান আজ কেবল পথচারীদের চলাচলের মাধ্যম নয়, হয়ে উঠেছে অসংখ্য নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এমনকি শিক্ষিত বেকার যুবকের জীবিকার শেষ ঠিকানা। করোনা-উত্তর অর্থনৈতিক সংকট, চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং পুঁজির অভাবে আনুষ্ঠানিক ব্যবসা শুরু করতে না পারার বাস্তবতা ফুটপাতকেই অনেকের কর্মক্ষেত্র বানিয়ে দিয়েছে। অথচ অবস্থানগত বৈধতা না থাকায় এই ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত উচ্ছেদের মুখোমুখি হন, নগর কর্তৃপক্ষের অভিযানে হারান তাঁদের একমাত্র উপার্জনের উপায় ও পুঁজি।
বেকারত্ব এবং শিক্ষিত যুবসমাজের ফুটপাতে আগমন
আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। প্রতি বছর উচ্চশিক্ষা শেষ করে হাজার হাজার তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, কিন্তু উপযুক্ত চাকরি পাচ্ছে না।
-
বাধ্য হয়ে আত্মকর্মসংস্থান: চুরি, ছিনতাই বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, অনেক শিক্ষিত ও সৎ তরুণ বাধ্য হয়ে ফুটপাতে ছোটখাটো দোকান দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথ বেছে নেয়।
-
মানবিক দৃষ্টিকোণ: একজন শিক্ষিত মানুষ যখন পেটের দায়ে ফুটপাতে বসে, তখন বুঝতে হবে সমাজ তাকে উপযুক্ত স্থান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তাদের অপরাধী হিসেবে না দেখে, তাদের এই সততার চেষ্টাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা উচিত। কঠোর উচ্ছেদ অভিযান তাদের চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে দেয়, যা তাদের ভুল পথে ধাবিত করতে পারে
অবৈধ নন, অবহেলিত: সংকটের মানবিক মাত্রা
নিছক উচ্ছেদ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, বরং এটি মানবিক সংকটকে ঘনীভূত করে এবং ক্ষোভ, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের চক্রান্তে ঠেলে দেওয়া মানুষগুলোকে অপরাধমুখী করে তুলতে পারে। তাই ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এমন এক পরিকল্পনার দাবি রাখে, যা একই সঙ্গে নগর-শৃঙ্খলা রক্ষা করবে এবং ভুক্তভোগী মানুষগুলোকে সম্মানজনকভাবে উৎপাদনশীল কর্মে ধরে রাখবে। সমস্যার গভীরতা বুঝতে হলে প্রথমেই স্বীকার করতে হবে, ফুটপাথের এই দোকানগুলো শুধুই অবৈধ দখল নয়, এগুলো একটি জরুরি সামাজিক বাস্তবতা। এঁদের মধ্যে অনেকেই স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী, যাঁরা পছন্দসই চাকরি না পেয়ে কিংবা পারিবারিক দায়িত্বের চাপে সামান্য পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। তাঁরা রাষ্ট্রের ওপর বোঝা না হয়ে বরং স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন।
উচ্ছেদ-পরবর্তী বিপদ: অপরাধের অন্ধকারে পতনের ঝুঁকি
সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান আইনত ন্যায্য হলেও, কেবল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই সংকট মেটে না। উচ্ছেদের পরদিনই তাঁরা আবার ফিরে আসেন, কারণ বিকল্প কোনো জীবিকা তাঁদের সামনে রাখা হয়নি। দীর্ঘমেয়াদে এমন পরিস্থিতি একদিকে নাগরিক ভোগান্তি ও যানজট বাড়ায়, অন্যদিকে অসহায় মানুষগুলো হতাশা থেকে ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা: বিভিন্ন দেশে ফুটপাত ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনা
বৈশ্বিক মডেল-১: ভারতের ‘স্ট্রিট ভেন্ডরস আইন’-এর মানবিকতা
এমন পরিপ্রেক্ষিতে উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন শহর ফুটপাত ব্যবসায়ীদের অপরাধী না ভেবে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা হিসেবে দেখেছে। ভারতের ‘স্ট্রিট ভেন্ডরস (জীবিকার সুরক্ষা ও পথ-বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৪’ একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই আইনের আওতায় প্রতিটি শহরে টাউন ভেন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিও থাকেন। জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত বিক্রেতাদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট ভেন্ডিং জোন চিহ্নিত করা হয় এবং উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়। এতে বৈধ স্বীকৃতি পাওয়া মানুষগুলো নাগরিক সুবিধা ও ব্যাংক ঋণের আওতায় আসেন, যা তাঁদের ব্যবসাকে টেকসই করে এবং অপরাধের পথ থেকে দূরে রাখে।
বৈশ্বিক মডেল-২: ব্যাংককের স্ট্রিট ফুড—বোঝা নয়, সম্পদ
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক তার সুস্বাদু স্ট্রিট ফুডের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। কিন্তু এখানকার কর্তৃপক্ষ খাবার বিক্রেতাদের পর্যটন সম্পদ হিসেবেই বিবেচনা করে, বোঝা হিসেবে নয়। ব্যাংককে নিবন্ধিত রাস্তার খাবার বিক্রেতাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ, স্বাস্থ্যবিধি প্রশিক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে তাঁরা শুধু জীবন-জীবিকাই নির্বাহ করেন না, বরং শহরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন। বৈধ স্বীকৃতি ও সামাজিক মর্যাদা পাওয়ার ফলে সেখানকার বিক্রেতারা কখনোই ছিনতাই বা অন্য অপরাধের দিকে ঝুঁকেন না; বরং ব্যবসা সম্প্রসারণই হয় তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
বৈশ্বিক মডেল-৩: সিঙ্গাপুরের ‘হকার সেন্টার’—উচ্ছেদ থেকে ঐতিহ্যে
সিঙ্গাপুরের ‘হকার সেন্টার’ মডেল আরও দৃষ্টান্তমূলক। সত্তর-আশির দশকে সেখানে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলো উচ্ছেদ করে সরকার উন্নত অবকাঠামোসম্পন্ন স্থায়ী হকার সেন্টার নির্মাণ করে। সাশ্রয়ী ভাড়ায় বিক্রেতারা সেখানে জায়গা পান এবং খাদ্য নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করেন। এই কেন্দ্রগুলো আজ ইউনেস্কোর বিচারে অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা বলে, ফুটপাত ব্যবসায়ী সমস্যার সমাধান হতে পারে তাঁদের যথাযথ পুনর্বাসনই, নিপীড়ন নয়। তাছাড়া হকার সেন্টারগুলো কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে, যা বেকারত্বজনিত অপরাধ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বৈশ্বিক মডেল-৪: দক্ষিণ কোরিয়ার জোনিং ও দক্ষতা উন্নয়ন
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলেও রাস্তার বিক্রেতাদের জন্য নির্দিষ্ট জোনিং ব্যবস্থা চালু আছে। কঠোর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ বিক্রেতাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা নিশ্চিত করে। বিশেষ করে চাকরি হারানো মধ্যবয়সী মানুষ যাতে ফুটপাতকেই একমাত্র ভরসা মনে না করেন, সেজন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিভিন্ন কারিগরি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু আছে। ফলত, রাস্তায় জায়গা না পেলেও অনেকেই ছোট দোকান, অনলাইন ব্যবসা বা অন্যান্য স্বাবলম্বী পেশায় চলে যেতে পারেন, যা প্রত্যক্ষভাবে অপরাধপ্রবণতা কমায়।
বৈশ্বিক মডেল-৫: কলম্বিয়ার মেডেলিন—অপরাধমুক্ত শহরের পুনর্বাসন
লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়ার মেডেলিন শহর আরেকটি মানবিক দৃষ্টান্ত। একসময় মাদকচক্র ও সহিংসতার জন্য কুখ্যাত এই শহর দারিদ্র্যপীড়িত ফুটপাত বিক্রেতাদের জোরপূর্বক সরিয়ে না দিয়ে বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের জন্য বাজার এলাকা তৈরি করে, ক্ষুদ্রঋণ দেয় এবং পণ্য বিপণনে প্রশিক্ষণ দেয়। পুনর্বাসনের এই প্রক্রিয়ায় বিক্রেতারা নিজেরাই শহরের উন্নয়নে অংশীদার বনে যান; ফুটপাত ছেড়ে যাওয়ার বিনিময়ে তাঁরা বৈধ পরিচয় ও উন্নত জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পান। এতে কেবল নগর-সৌন্দর্যই ফিরে আসেনি, সহিংস অপরাধের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
পাঁচ দেশের শিক্ষা: বাংলাদেশের জন্য করণীয়:
উপরোক্ত আন্তর্জাতিক মডেল থেকে আমাদের জন্য কয়েকটি মূল শিক্ষা স্পষ্ট। প্রথমত, ফুটপাত ব্যবসায়ীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। উচ্ছেদের আগে জরিপ করে প্রকৃত বিক্রেতাদের নিবন্ধন করা, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট ভেন্ডিং জোন তৈরি করা, স্বল্প ভাড়ায় বা বিনা ভাড়ায় লাইসেন্স দেওয়া এবং মৌলিক সেবা (পানি, বিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, যাঁদের জন্য ভেন্ডিং জোনেও জায়গা হয় না, অথবা যাঁরা বিকল্প পেশায় যেতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি ও সহজ শর্তে ঋণ বাস্তবায়ন করতে হবে। তৃতীয়ত, পুনর্বাসন প্রকল্পগুলোতে বিক্রেতাদের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে সমাধানটি হয় অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই। চতুর্থত, নগর পরিকল্পনার শুরুতেই ফুটপাত ব্যবসার অর্থনৈতিক গুরুত্ব স্বীকার করে নির্দিষ্ট স্থান সংরক্ষণ করতে হবে, যেমনটি সিঙ্গাপুর বা ব্যাংককে দেখা যায়।
অপরাধপ্রবণতা রোধে পুনর্বাসনের গুরুত্ব
উচ্ছেদের পর যদি বিকল্প কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হয়, তবে তার ফলাফল সমাজের জন্য মারাত্মক হতে পারে।
হতাশা ও অপরাধের যোগসূত্র: একজন মানুষ যখন তার বৈধ আয়ের একমাত্র উৎসটি হারায় এবং পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটায়, তখন বেঁচে থাকার তাগিদে সে চরম হতাশায় ভোগে। এই হতাশা থেকে অনেকে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি বা বিভিন্ন গ্যাং-এর সাথে জড়িয়ে পড়তে পারে।
তাই সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে এবং যুবসমাজকে খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখতে হকারদের পুনর্বাসন করা রাষ্ট্রের একটি বড় বিনিয়োগ।
স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাবনা:
সিটি কর্পোরেশন এবং সরকারকে ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী ও মানবিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে:
ডিজিটাল ডাটাবেজ ও লাইসেন্সিং: প্রথমে প্রকৃত হকারদের (বিশেষ করে শিক্ষিত ও নিরুপায় যুবকদের) তালিকা তৈরি করে আইডি কার্ড বা লাইসেন্স দিতে হবে।
Holiday Market ও টাইম জোন: সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে (যেমন: শুক্র ও শনিবার) নির্দিষ্ট কিছু রাস্তা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে হকারদের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে। অথবা প্রতিদিন অফিস সময়ের পর (সন্ধ্যা ৬টার পর) ব্যবসার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
হকার্স মার্কেট ও ভেন্ডিং জোন: শহরের অব্যবহৃত সরকারি জায়গা বা বহুতল হকার্স মার্কেট নির্মাণ করে তাদের নামমাত্র মূল্যে পুনর্বাসন করা।
সহজ শর্তে ঋণ: শিক্ষিত তরুণদের ফুটপাত থেকে সরিয়ে স্থায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায় নিয়োজিত করতে জামানতবিহীন ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা। এই বিষয়ে কর্মসংস্থান ব্যাংক একটা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
পুনর্বাসনের সুফল: সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ:
এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু নগরের শৃঙ্খলা ফেরানো নয়; বরং লাখো মানুষকে বৈধ ও সম্মানজনক কাজে আটকে রাখার মধ্য দিয়ে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধের হার কমানো। যে শিক্ষিত তরুণ বাধ্য হয়ে ফুটপাতে চায়ের দোকান দিয়েছে, তাকে যদি বৈধ লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও সামান্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে একটি সুসংহত ভেন্ডিং বুথে বসানো যায়, তাহলে সে সমাজের সম্পদে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে, উচ্ছেদের পর কোনো বিকল্প না পেলে সেই তরুণই বেকারত্বের জ্বালায় আগামীকাল ছিনতাই কিংবা মাদক কারবারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। কাজেই ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন কেবল মানবিকতার প্রশ্ন নয়, এটি একটি বাস্তবসম্মত অপরাধনীতি ও নগর উন্নয়ন কৌশলও বটে।
আলোর পথে ফেরার সুযোগ সবার প্রাপ্য
পরিশেষে বলতে হয়, ফুটপাতে দোকানদারির অবৈধতা যতটা না তাদের ব্যর্থতা, তার চেয়ে বেশি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের অভাব। আইনের চোখে উচ্ছেদ যৌক্তিক হতেই পারে, কিন্তু কেবল উচ্ছেদ কোনো সমাধান নয়, বরং তা আরেকটি সামাজিক সংকটের জন্ম দেয়। সিটি কর্পোরেশনগুলো যদি ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর বা কলম্বিয়ার পথ অনুসরণ করে একটি সুপরিকল্পিত, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য পুনর্বাসন নীতিমালা গ্রহণ করে, তাহলে পথচারীর জন্য ফুটপাত যেমন ফিরে পাওয়া যাবে, তেমনি হাজারো পরিবারের ঘরে জ্বলবে আয়ের প্রদীপ। আর সবার আগে, এসব মানুষ অপরাধের আঁধারে হারিয়ে না গিয়ে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে, যে সুযোগ রাষ্ট্রের সবারই প্রাপ্য।
( লেখক : জননিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অতিরিক্ত আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ অব.)
আপনার মতামত লিখুন :