বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। টুর্নামেন্টে মাঠে নামার আগেই ফিফাকে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামে কোনো অস্বীকৃত পতাকা প্রদর্শন করা হলে কিংবা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হলে তারা ম্যাচ বন্ধ করার আবেদন জানাবে। এমন পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই বলেও স্পষ্ট করেছে তেহরান।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরান বিশ্বকাপ চলাকালে মেক্সিকোতে অবস্থান করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলেই আবার ফিরে যাবে। এছাড়া দেশটির অনেক সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা না পাওয়ায় ক্ষোভও রয়েছে ইরানি মহলে।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামাল জানিয়েছেন, ফিফাকে আগেই বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের জাতীয় দলের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের উসকানিমূলক আচরণ বা অস্বীকৃত পতাকা প্রদর্শিত হলে কোচ ম্যাচ স্থগিতের অনুরোধ জানাবেন।
গ্রুপ পর্বে ইরানের শেষ ম্যাচ হবে মিশরের বিপক্ষে সিয়াটলে। দেশটি ম্যাচটিকে ‘গর্বের লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দোনিয়ামাল দাবি করেন, আয়োজকরা আশ্বাস দিয়েছেন যে ওই ম্যাচে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না। এর আগে ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। পরে তারা মুখোমুখি হবে বেলজিয়ামের।
এদিকে গ্যালারিতে ইরানের প্রাক-বিপ্লবী পতাকা বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন ‘ইনস্টিটিউট ফর ভয়েসেস অব লিবার্টি’ অভিযোগ করেছে, এই নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমর্থকদের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। সংগঠনটি বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি দায়ের করে।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আগে ফিফার কাছে বেশ কিছু শর্তও দিয়েছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। এর মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা এবং দল যে শহরগুলোতে খেলবে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান উত্তেজনার পর এসব দাবির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
আপনার মতামত লিখুন :