মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি আজ রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিষয়ে এখনো সংশয় প্রকাশ করছে ইরান।
শনিবার (১৩ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানও জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।
তবে ইরানের অবস্থান ভিন্ন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, চুক্তিটি রোববারই স্বাক্ষরিত হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এদিকে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ট্রাম্পের ঘোষণাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, যখন ইরানি আলোচকরা বলছেন চুক্তির খসড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তখন ট্রাম্প অস্বাভাবিক তাড়াহুড়া করে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলছেন।
আইআরজিসি আরও বলেছে, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন। তাদের ধারণা, জন্মদিনে চুক্তি সম্পন্ন করে সেটিকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “চুক্তিটি আগামীকাল (রোববার) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।”
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আরও বলেন, পরিস্থিতি শান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে গিয়ে তথাকথিত ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ সংগ্রহ করবে এবং পরে তা ধ্বংস করা হবে।
চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে এখন জোর আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছাবে, নাকি নতুন কোনো জটিলতা তৈরি হবে— সেদিকেই নজর সবার।
আপনার মতামত লিখুন :