আবুধাবিতে পরিচয়, জাজিরায় পরিণয়, প্রেমের টানে আমিরাত থেকে এসে বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করলেন সলেমান

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

প্রায় দুই বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির একটি পার্কে হয়েছিল পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর বন্ধুত্বের পথ ধরে জন্ম নেয় ভালোবাসা। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর অবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক সলেমান (৫০) এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা সুবর্ণা (২০)।

সোমবার (১৫ জুন) কনের নিজ বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ের আয়োজন। বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর এই বিয়ে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কর্মসূত্রে প্রায় দুই বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যান সুবর্ণা। সেখানে আবুধাবিতে সলেমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিষয়টি দুই পরিবারকে জানান। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়।

বিয়েকে কেন্দ্র করে মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয় গায়েহলুদের অনুষ্ঠান। পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার অতিথির আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বজনদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবার তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে অবগত ছিল। পারস্পরিক আলোচনা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। বরের পারিবারিক অবস্থা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কেও কনের পরিবার আগে থেকেই জানত।

জানা গেছে, সলেমান এর আগে বিয়ে করেছেন এবং তিনি তিন সন্তানের জনক। বিষয়টি জেনেশুনেই সুবর্ণা ও তার পরিবারের সদস্যরা এই বিয়েতে সম্মতি দেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সুবর্ণা বলেন, “আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি দুই পরিবারই জানে। সবার মতামত ও সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।”

তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন সলেমান। এ কারণে তিনি গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা হিমেল আহমেদ অপি বলেন, “তাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা রইল। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কিছু যাচাই-বাছাই করা হলে ভালো হতো। তবে যেহেতু দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে হয়েছে, তাদের জন্য শুভকামনা রইল।”

মূলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাদবর বলেন, “মেয়েটি সাবালিকা এবং ছেলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তারা যেন সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারে, সেটিই কামনা করি।”

Advertisement

Link copied!