ময়মনসিংহ রেঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ গ্রেপ্তার অভিযানে তদবিরের অভিযোগ, তালিকা করছে গোয়েন্দা সংস্থা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:১১ পিএম

জামাল উদ্দিন খান : ময়মনসিংহ রেঞ্জের চার জেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও  আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান গ্রেপ্তার অভিযানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, গত প্রায় এক মাস ধরে চলমান অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে কিছু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করছেন। 

এ পরিস্থিতিতে একটি গোয়েন্দা সংস্থা তদবিরকারীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। পুলিশ সূত্র জানায়, চার জেলার মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অভিযানের শুরু থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে তদবিরের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা।

নেত্রকোনার কয়েকটি থানা সূত্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। জেলার দুইজন ওসি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে অব্যাহত তদবিরের কারণে তারা চাপে রয়েছেন। একই সঙ্গে একটি গোয়েন্দা সংস্থা এসব তদবিরকারীর তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও জানান তারা।

ময়মনসিংহ জেলার কয়েকজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গত এক সপ্তাহে চলমান অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তাদের ওপর বিভিন্ন মহল থেকে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা হয়েছে। তারা দাবি করেন, যারা আইনগত প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছেন বা গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির জন্য তদবির করছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

জামালপুরের এক ওসি বলেন, সম্প্রতি চারজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের পক্ষে একাধিক ব্যক্তি যোগাযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের তদবির পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তবে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। শেরপুর জেলার কয়েকজন ওসি দাবি করেন, গ্রেপ্তারের পর কিছু ব্যক্তি আত্মীয়-স্বজন পরিচয়ে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। এতে একদিকে পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ময়মনসিংহের ভালুকা মডেল থানায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তুলনামূলক বেশি তদবিরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

একজন ওসি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তির বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেঞ্জের চার জেলার পুলিশ সুপারদের বক্তব্য হলো, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে কোনো ধরনের তদবির গ্রহণ করা হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি কেউ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে বা দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।

Advertisement

Link copied!