সহশ্রাম-ধুলদিয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা, জমে উঠছে নির্বাচনী আলোচনা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা-এর ২নং সহশ্রাম-ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জনসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে।

সরেজমিনে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে তারা একজন যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চান। ভোটারদের প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর।

সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুখলেছুর রহমান বাবলু বলেন, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহল ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলা হলেও তারা দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

বর্তমান ২নং ওয়ার্ডের সদস্য সাজেদুল হক সজল বলেন, “স্থানীয় ভোটারদের সমর্থনে আমি মানুষের পাশে আছি। ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।” তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার মরহুম পিতাও এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি সবসময় ইউনিয়নবাসীর সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আকন্দ বলেন, “আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমার ও আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে দলমত নির্বিশেষে সকল ভোটারকে নিয়ে কাজ করেছি।” তিনি জানান, এখনো ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন।

অপর সম্ভাব্য প্রার্থী, সাবেক বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা ও গচিহাটা বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা জয়নাল আবেদিন খোকন বলেন, “রাজধানীর আরামদায়ক জীবন ছেড়ে গ্রামের মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য নিজ এলাকায় ফিরে এসেছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রবাসী ও প্রবীণদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে এই ইউনিয়নকে বাংলাদেশের একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত করব।”

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক জনসংযোগ শুরু হয়েছে। অনেক ভোটার মনে করেন, অতীতের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সততা, জনসম্পৃক্ততা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবার ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সক্ষম নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিয়নটিতে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর সক্রিয় উপস্থিতির কারণে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা, নির্বাচন যেন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।

 

Link copied!