ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জরিপ নিয়ে আঞ্চলিক কর্মশালা

‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অবস্থা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিরুপণ বিষয়ে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জরিপ ২০২৬’ বিষয়ক বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের অংশগ্রহণে এক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো‘র সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ময়মনসিংওহর বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মীর হোসেন, যুগ্নসচিব ড. দিপঙ্কর রায়, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত।

গেলো বছরের ২৪ অক্টোবর শুরু হওয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন-মান উন্নয়নে নিরূপণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালের ৩০ জুন। এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত ১৭টি জেলায় ৬০জন তথ্য সংগ্রহকারী জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। জরিপ কার্যক্রমের খসড়া প্রশ্নপত্রে ৭টি মডিউল উপস্থাপন করা হয়। এসব মডিউল নিয়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সরকারি দপ্তরে কর্মরত অফিসারগণের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ফিরোজ সরকার বলেন, দেশের সামগ্রিক ও সুষম উন্নয়নের কথা ভাবতে গেলে প্রথমেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা চলে আসে। এই জরিপের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সঠিক আর্থসামাজিক অবস্থা এবং দারিদ্র্যের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। এটি ভবিষ্যতে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সঠিক জনসংখ্যার তথ্যও পাওয়া যাবে। নির্ভুল ও সঠিক তথ্য সংগ্রহের জন্য সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিসংখ্যানে স্থানীয় আদিবাসী প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করার সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, আজকের এই কর্মশালা জরিপের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ এবং মাঠপর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীদের এ কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান।

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জরিপ পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।

Link copied!