মোঃ হাসান ,বান্দরবন: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় এক তরুণকে অপহরণ করে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রায়হান উদ্দিন রাজ (২৮) বান্দরবানের সুয়ালক এলাকার বাসিন্দা। তিনি জসীম উদ্দীন ও হাসিনা বেগমের ছেলে। এ ঘটনায় রায়হানের মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুন সন্ধ্যা সাতটার দিকে রায়হান উদ্দিন রাজ কেরানীহাট তাসনোভা শপিং সেন্টারের নিচে একটি মোবাইলের দোকানে যান। এ সময় মিশকাতুন নবী মিশকাতের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে জোরপূর্বক আটক করে মারধর করেন। পরে তাঁকে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে লোহার রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তাঁর মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা রায়হানের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং জোরপূর্বক মাদক ব্যবসার স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পূর্বের একটি মামলা তুলে নেওয়া এবং বাকি টাকা পরিশোধের জন্য তাঁর পরিবারের কাছে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে রায়হানকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে পুলিশ এসে তাঁকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাদী হাসিনা বেগম দাবি করেন, এর আগে তাঁর কাছে একটি গোপন ভিডিও দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেছিলেন প্রধান অভিযুক্ত। এ নিয়ে বান্দরবান সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে আসামিরা জামিনে বের হয়ে আবারও টাকা দাবি ও হুমকি দিতে থাকেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাতকানিয়া থানার এস আই মোহাম্মদ ইমরান বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি।ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেছি। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :