অভাবের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে এবং আত্মকর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয়ে এগিয়ে এসেছেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ মোক্তার আলী। তাঁর ব্যক্তিগত ঐচ্ছিক তহবিল থেকে উপজেলার অসহায়, দরিদ্র ও কর্মসংস্থান প্রত্যাশী মানুষের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই মানবিক কর্মসূচিতে উপকারভোগীদের হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেন প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ মোক্তার আলী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেশবপুর উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি অধ্যাপক মোঃ মোক্তার আলী বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। আমরা চাই প্রতিটি পরিবার স্বাবলম্বী হোক, প্রতিটি যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাক এবং কেউ যেন অভাবের কারণে পিছিয়ে না থাকে। আজকের এই সহায়তা কোনো দান নয়, বরং মানুষের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, কেশবপুরের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই আমাদের এই উদ্যোগ সফল হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী কেশবপুর উপজেলা নায়েবে আমীর, খুলনা মহানগরের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি ও ঢাকা কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ বলেন, ইসলামি সমাজব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে আসা উচিত। তিনি আরও বলেন, মানুষকে সাময়িক সাহায্যের পাশাপাশি কর্মক্ষম করে তোলাই প্রকৃত কল্যাণমূলক কাজ। এই সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক মোঃ তবিবুর রহমান, পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমান, পৌর জামায়াতের আমীর প্রভাষক মোঃ জাকির হোসেনসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, নেতৃবৃন্দ ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা।
নগদ অর্থ সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীদের মুখে ছিল স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। তারা জানান, প্রাপ্ত অর্থ ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষিকাজ ও অন্যান্য আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করে পরিবারকে আরও সচ্ছল করার চেষ্টা করবেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন জনকল্যাণ ও মানবিকতার মেলবন্ধন ঘটায়, তখন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ সুগম হয়। এমপি অধ্যাপক মোক্তার আলীর এই উদ্যোগ কেবল আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, বরং আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠনের একটি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ কেশবপুরের জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই মনে করছেন, আত্মকর্মসংস্থানভিত্তিক এমন কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে এলাকার দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :