মাহমুদুল হাসান, চৌহালী সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের কোদালিয়া দক্ষিণ পাড়া খালের ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকো ও ধসে যাওয়া বিদ্যুৎ খুঁটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের জন্য এটি এখন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন নাগরপুর জোনাল অফিসের অধীনে কোদালিয়া দক্ষিণ পাড়া খালের মাঝখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি খুঁটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খালের পানির প্রবাহ ও ভাঙনের কারণে খুঁটিটি দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
এদিকে খালের ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকোটিও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন এই সাঁকো ব্যবহার করে শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। খালের পূর্ব পাশে রয়েছে একটি মসজিদ ও হাফিজিয়া মাদরাসা এবং পশ্চিম পাশে রয়েছে কোদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও পাকা সড়ক। দক্ষিণ এলাকার আবাদি জমির ফসলও এই পথ দিয়েই আনা-নেওয়া করেন কৃষকরা। খুঁটির নীচে সারা বছরই পানি থাকে, যা সরেজমিনে দেখা গেছে।
শান্তির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে লিয়াকত মেম্বারের বাড়ি (কাঠের সাঁকো) পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটি মাটি ভরাট করে পূর্ণাঙ্গ রাস্তা এবং সাঁকোর স্থানে পাকা সেতু স্থাপন করা হলে এই এলাকা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে গণমানুষের দাবি। কারণ কোদালিয়া বাজার থেকে আলহাজ্ব মোঃ মজিবুর রহমান মাস্টারের বাড়ি (সাঁকো পর্যন্ত) রাস্তা রয়েছে। এই খালের ওপর একটি বক্স কালভার্ট ধসে যাওয়ার পর সেতুটি নিলাম ও ভেঙে নিলেও একটি কাঠের সাঁকোর জায়গায় আজও পাকা সেতু নির্মাণ হয়নি। রাস্তা ও সেতু না থাকায় মানুষের কষ্ট আকাশ সমান, তবে সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না বলে স্থানীয়রা জানান।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ্ব মোঃ মজিবর রহমান বলেন, “খালের ওপর কাঠের সাঁকো ও বিদ্যুৎ খুঁটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী সিকদার বলেন, “খালের মাঝখানে দেবে যাওয়া বিদ্যুৎ খুঁটিটি বর্ষার আগেই স্থানান্তর না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা শিশু শিক্ষার্থী, কৃষক ও এলাকাবাসী বিদ্যুৎ ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তর এবং খালের ওপর একটি স্থায়ী পাইলিং সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে কোমলমতি শিশুসহ শতাধিক পরিবারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :