যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ০১:২১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গতি পেয়েছে। গত ১৭ জুন দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর এবার চুক্তির খসড়া ও শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশ থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। হোয়াইট হাউস উইটকফের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার এজেন্ডা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি। একইভাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও আরাগচির সফর নিয়ে সীমিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

মূলত গত ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের কথা ছিল। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের। তবে ১৭ জুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্যারিসে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরানে পৃথকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

পরদিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য আলাদা প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। তেহরানের এ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রও জে ডি ভ্যান্সের নির্ধারিত সফর বাতিল করে।

‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’কে দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তিচুক্তির ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৮০০ শব্দের এ নথিতে ১৪টি শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকার করে এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করে, তাহলে দেশটির স্থগিত অর্থ ও সম্পদ অবমুক্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সাম্প্রতিক সংঘাতজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।

অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে।

Link copied!