ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গাজীর বাজারে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মো. মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন গ্রাহকের আনুমানিক ৭০ থেকে ৭২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।
অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ উপজেলার মসলেম উদ্দীনের ছেলে এবং কালীগঞ্জ উপজেলার সাবেক জামায়াত আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা ওলিউর রহমানের বড় জামাতা বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বিক্ষোভ ও উত্তেজনার প্রেক্ষিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীর বাজার ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার অধীনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ গ্রাহক রয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী ও রেমিট্যান্স প্রেরণকারী পরিবারের সদস্য রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
“মাসুম বিল্লাহ প্রায় সাত বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। আমরা তাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু গত ২৪ জুন ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের অস্বাভাবিক ভিড় দেখে বিষয়টি জানতে পারি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ২৫ থেকে ৩০ জন গ্রাহকের প্রায় ৭০ থেকে ৭২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তবে আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন।”
গাজীর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মন্ডল বলেন, একটি স্বনামধন্য ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। বহু মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর আলী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি। এখানে অনেক প্রবাসী পরিবারের কষ্টার্জিত অর্থ রয়েছে। আমরা চাই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের অর্থ ফিরে পান।”
এদিকে টাকা হারিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। ভুক্তভোগী মুনতাজ বলেন, কষ্ট করে উপার্জন করা টাকা নিরাপদ ভেবে ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন সব অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।”
আরেক ভুক্তভোগী সালেহা খাতুন বলেন, সংসার চালিয়ে অল্প অল্প করে ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমিয়েছিলাম। বিশ্বাস করে টাকা রেখেছিলাম, কিন্তু এখন সেই বিশ্বাস ভেঙে গেছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটি বড় বিপর্যয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. মাসুম বিল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গাজীর বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :