দুর্গম পাহাড়ে নজরদারির ঘাটতি, খ্যায়াচলং বনে চলছে কাঠ নিধন

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

মোঃ হাসান ,বান্দরবান: বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত খ্যায়াচলং রেঞ্জের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল রক্ষায় বাস্তব চ্যালেঞ্জ দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সীমিত জনবল, সরঞ্জামের ঘাটতি ও দুর্বল নজরদারির কারণে বন ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে রেঞ্জ কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে অভিযোগ।

বান্দরবান বন বিভাগের আওতাধীন এই রেঞ্জের অধিকাংশ এলাকা পাহাড়ি ও দুর্গম। অনেক স্থানে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় হাঁটতে হয়, আবার কোথাও নৌপথ ছাড়া বিকল্প নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এই ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে টহল কার্যক্রম সব এলাকায় পৌঁছায় না। ফলে বনের ভেতরের বাস্তব পরিস্থিতি অনেক সময় অজানাই থেকে যায়।

স্থানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বনের ভেতরে প্রায়ই গাছ কাটার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে মূল্যবান প্রজাতির গাছ রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হয়। তাদের দাবি, দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে জানা যায়, বনের কাঠ সরাতে একাধিক পথ ব্যবহার করা হয়।

একটি পথ হলো রোয়াংছড়ি–বান্দরবান সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের ভেতর থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ট্রাকে করে এই সড়ক দিয়ে বান্দরবান সদর পর্যন্ত আনা হয়। পরে সেগুলো চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

আরেকটি পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয় পাহাড়ি ছড়া ও নদীপথ। স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের সময় কাঠের গুঁড়ি পানিতে ভাসিয়ে নিচের দিকে আনা হয় এবং সুবিধাজনক স্থানে তুলে নেওয়া হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়,ব্যক্তি মালিকানাধীন বা সামাজিক বনায়নের নামে দেওয়া বৈধ কাগজপত্রের আড়ালে সরকারি বনাঞ্চলের কাঠ পরিবহন করা হয়।

এ ছাড়া বনের ভেতরে গোপনে কাঁচা রাস্তা তৈরি করে রাতে যানবাহন ঢোকানো হয়। এসব পথে কাঠ পাচার হচ্ছে নিয়মিত  বলেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের অভিযোগ, খ্যায়াচলং রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামান নিয়মিতভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তিনি অধিকাংশ সময় বান্দরবান সদর এলাকায় অবস্থান করে সেখান থেকেই প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাবে বনাঞ্চলের অনেক এলাকায় কার্যত নজরদারি নেই। ফলে কাঠ পাচারচক্র সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে এমন অভিযোগ রয়েছে যে, রেঞ্জ কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতিতে কাঠ পাচার হচ্ছে নিয়মিত। পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রেঞ্জ এলাকায় জনবল স্বল্পতা দীর্ঘদিনের সমস্যা।  এ ছাড়া যানবাহন ও যোগাযোগ সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে নিয়মিত টহল ও দ্রুত অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুজ্জামান সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি অসুস্থতার অজুহাতে কল কেটে দেন। 

Link copied!