পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গজপুরী এলাকায় সরকারের বৈধ বালুমহালের বালু পরিবহন বন্ধ করতে ১৬ ফুট প্রস্থের একটি রেকর্ডীয় সরকারি রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খবর পেয়ে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর জব্দ করা হয় এবং চালক ইসরাফিলকে থানায় নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করতোয়া নদীর তেলীপাড়া ঘাট থেকে দীর্ঘদিন ধরে ওই সরকারি রাস্তা ব্যবহার করে ট্রাক্টরের মাধ্যমে বালু পরিবহন করা হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি প্রথমে কোঁদাল দিয়ে রাস্তা কেটে নিচু করেন। পরে ট্রাক্টর দিয়ে প্রায় ১০ ফুট প্রস্থের অংশ চাষ করে রাস্তার উচ্চতা পাশের আবাদি জমির সমান করে দেন, ফলে বালু পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর তথ্যের ভিত্তিতে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টহল দল ও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে বালুমহালের ইজারাদারের লোকজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ব্যবহৃত ট্রাক্টরটি চালকসহ আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক ট্রাক্টরচালক ইসরাফিল জানান, রাতে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৩০ জনকে কোঁদাল দিয়ে রাস্তা কাটতে দেখেন। তিনি প্রথমে রাস্তা চাষ করতে রাজি না হলেও উপস্থিত ব্যক্তিরা দায়-দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিলে তিনি ট্রাক্টর চালান। এ সময় তিনি আব্দুল হাই, রফিক ও আরফানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন এবং ঘটনাস্থলে ৩০ থেকে ৩৫ জন উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সহিদুল ও মজনু জানান, দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে ওই রাস্তা দিয়ে বালু পরিবহন হয়ে আসছে। রাস্তা কেটে দেওয়ায় শুধু বালু পরিবহন নয়, কৃষিজমিতে সার, বীজ ও কীটনাশক পরিবহনেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় আনোয়ার হোসেন।
সোমবার (২৯ জুন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দেবীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ বিন জিয়া। এ সময় স্থানীয় ওমর আলী বলেন, ট্রাক্টর চলাচলের কারণে ফসলের ক্ষতি, গবাদিপশু চলাচলে সমস্যা এবং শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসী রাস্তা কেটেছেন।
তেলীপাড়া ঘাটের ইজারাদার সরকার ফরিদুল ইসলাম বলেন, “প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছি। কিন্তু বালু পরিবহনে বাধা দেওয়ায় প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে এ বাধা সৃষ্টি করছেন।
রাস্তা কাটার ঘটনায় স্থানীয় মণ্ডল, আমজাদ, বাহাদুর, সুরুজ, মোতালেব ও আব্দুল হাইয়ের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়; এলাকার স্বার্থ রক্ষার জন্যই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ওমর আলী বলেন, “ভারী ট্রাক চলাচলে আবাদি জমি ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এলাকাবাসী মিলে রাস্তা কেটে দশ চাকার ট্রাক ও ডাম্প ট্রাক চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ বিন জিয়া বলেন, “সরকারি রাস্তা কেটে ব্যক্তিগত জমির সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা আইনত অপরাধ। আপাতত রাস্তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ভূমি অপরাধ প্রতিকার আইনে নিয়মিত মামলা করা হবে। পাশাপাশি উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :