টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত দুধকুমার নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলো দ্রুত প্লাবিত হয়ে পড়েছে এবং নতুন নতুন লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে নদীসংলগ্ন উপজেলার বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, নুনখাওয়া, নারায়ণপুরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, আমন ধানের বীজতলা ও অসংখ্য মাছের পুকুর তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে চরাঞ্চল ও দুর্গম গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে। প্লাবিত এলাকার মানুষ গবাদিপশু ও পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক পরিবারই বর্তমানে পানিবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
তীব্র স্রোতে নদীভাঙন আতঙ্ক: বিলীনের পথে ঘরবাড়ি পানি বাড়ার পাশাপাশি নদীতে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন পয়েন্টে আকস্মিক ও তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমিধ্যেই বেশ কিছু আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নদীতীরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে বন্যা ও ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনেকেই ঘরবাড়ির প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও শুকনো খাবার নিরাপদ স্থানে বা উঁচু বাঁধে সরিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
দেখা দিচ্ছে খাবার, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট হঠাৎ লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় বন্যাকবলিত এলাকার টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিনগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে দুর্গত এলাকাগুলোতে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। চরাঞ্চলের বহু পরিবার রান্নার চুলা জ্বালাতে না পারায় শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অভুক্ত দিন কাটাচ্ছেন; শুকনো খাবারের সংকটও দিন দিন প্রকট হচ্ছে। একই সাথে বন্যার নোংরা পানির কারণে পানিবাহিত চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চিকিৎসকেরা।
অনেক এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি উঠে যাওয়ায় এবং যাতায়াতের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কোনো কোনো বিদ্যালয়কে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও এলাকাবাসীর আকুল দাবি স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তারা সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বন্যাদুর্গতদের তালিকা তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পানি যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, তাতে দ্রুত সরকারি জরুরি ত্রাণ সহায়তা (চাল, ডাল, শুকনো খাবার) ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত না করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে, শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ এবং ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :