বাণিজ্যে সমতা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক সম্ভব নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমদানি ও রপ্তানিতে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তাঁর মতে, একতরফা বাণিজ্য কখনোই টেকসই হতে পারে না; উভয় দেশকেই পরস্পরের পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে সক্রিয় হতে হবে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াই শততম বর্ষপূর্তি, দুই দেশের বাণিজ্য, উড়োজাহাজ ক্রয়, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য সহযোগিতা এবং ভিসা নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি হলো মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক বাণিজ্য। বর্তমানে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলকভাবে কম পণ্য আমদানি করে। তাঁর ভাষায়, একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য উভয় দেশেরই একে অপরের পণ্য ক্রয় করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যদি কেবল যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে কিন্তু সেখান থেকে কোনো পণ্য আমদানি না করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেই সম্পর্ক টিকে থাকা কঠিন হবে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একটি পারস্পরিক বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাঁর মতে, এর ফলে বাংলাদেশ শুল্ক-সুবিধার পাশাপাশি শুল্ক ব্যবস্থাপনা, শ্রমপরিবেশ এবং বিনিয়োগ কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুযোগ পাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।

বাণিজ্যিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নতমানের গম ও কৃষিপণ্য আমদানি শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, মার্কিন গমে অপচয়ের হার প্রায় ২ শতাংশ, যেখানে অন্য কিছু উৎস থেকে আমদানি করা গমের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জ্বালানি খাত নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা পূরণে দেড়শ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এ খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী হলেও বিনিয়োগবান্ধব এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নীতিমালা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভিসা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভিসার অপব্যবহার, জাল নথি ব্যবহার এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ যাতে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারে, সে লক্ষ্যেও দুই দেশ কাজ করছে।

স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, যক্ষ্মা, হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পাঁচ বছরের নতুন একটি স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াই শততম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশজুড়ে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি পালনের কথাও জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বিভিন্ন আয়োজন করা হবে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীতে ২৫০টি রিকশা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার লাল, সাদা ও নীল রঙে সজ্জিত করা হয়েছে। এছাড়া দেশটির স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরতে ‘প্রতিষ্ঠাতা জাদুঘর’ নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

 

আলোচনার শেষদিকে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মার্কিন দলকে সমর্থনের আহ্বান জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

Link copied!