দীর্ঘদিনের ভরাট, দখল এবং অব্যবস্থাপনায় প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মুছার খাল, স্থানীয়দের কাছে যা ‘মরা মেঘনা’ নামে পরিচিত। পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ একর কৃষিজমিতে দেখা দেয় তীব্র সেচ সংকট, আর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হতো ফসল। অবশেষে সরকারি উদ্যোগে খালটির পুনঃখনন শেষ হওয়ায় ফিরেছে পানির প্রবাহ। এতে বদলে যেতে পারে পুরো এলাকার কৃষি উৎপাদনের চিত্র—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালটি ভরাট হওয়ার পর বছরের অধিকাংশ সময় সেচের পানির সংকটে জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল উপায়ে সেচ দিতে হতো, আবার কেউ কেউ একাধিক মৌসুমে চাষাবাদই করতে পারতেন না। বর্ষায় একই খাল পানি নিষ্কাশনের পথ হারিয়ে জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়াত।
কৃষক আবদুল করিম বলেন, “আগে খালে পানি না থাকায় সেচ দিতে অনেক কষ্ট হতো। এখন পানি পাচ্ছি। আশা করছি বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল আবাদ করা যাবে।”আরেক কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হয়ে যেত। খাল পুনঃখননের ফলে এখন সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে খালটির প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। প্রকল্পটি কমলনগরের তোরাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে ভবানীগঞ্জের চরমনসা এলাকা পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাদ বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, “মুছার খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এক ফসলি জমি দুই থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু পুনঃখনন করলেই হবে না; খালটি যেন আবার দখল ও ভরাটের শিকার না হয়, সে জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই কোটি টাকার এ প্রকল্পের সুফল হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলার প্রাকৃতিক খালগুলো সচল রাখা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। সে বিবেচনায় মুছার খালের পুনঃখনন ভবানীগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :