৩০ জুনের পর কার্ড নবায়ন বন্ধ; মাইকিং করে সতর্ক করল জেলা প্রশাসন বারবার উচ্ছেদের পরও দখল হয়ে যায় সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে বসানো সব ঝুঁপড়ি দোকান নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে মাইকিং করে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের রিট পিটিশন নম্বর ৬২৬/২০১১-এর আদেশ ও কার্ডের শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে বালিয়াড়িতে সব সাময়িক কার্ড বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। ১ জুন স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কক্সবাজার জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির বছরে কয়েক কোটি টাকা অনুমতি বাণিজ্য রয়েছে। সৈকতের নানা ধরনের ঝুপড়ি দোকান, কিটকট (বিচ ছাতা), ঘোড়া, বিচ বাইক, ওয়াটার বাইকসহ নানা ব্যবসা পরিচালনার বিপরীতে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়। যা নিয়ে বছরের পর বছর জুড়ে সৈকতে আইন না মেনে অব্যাহত রয়েছে একের পর এক দখল করে দোকান নির্মাণ।
যদিও, কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতকে ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। সৈকতের জোয়ার-ভাটার অঞ্চল থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত বালিয়াড়িতে যে-কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নয়ন নিষিদ্ধ। বালিয়াড়িতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। ফলে সৈকতের এসব ব্যবসা নিয়ে বছরের পর বছর বিতর্ক আলোচনা চলছে।
এর মধ্যে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এক হাজার দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
আপনার মতামত লিখুন :