কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় নিবন্ধনের তুলনায় প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষা শুরু হয়। বোর্ড সূত্র জানায়, এবার পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছিল ১ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯৫ হাজার ৮৯ জন।
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৭ হাজার ৩২৪ জন ছাত্রী এবং ৩৭ হাজার ৭৬৫ জন ছাত্র। অর্থাৎ ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ২০ হাজার ১৬৫ জন বেশি।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৪৩ হাজার ৪৯৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ২৮ হাজার ৪৯৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৩ হাজার ৯৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
জেলাভিত্তিক হিসাবে কুমিল্লা জেলায় সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে। জেলার ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৭৮টি কেন্দ্রে ৩৩ হাজার ৬১২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। নোয়াখালী জেলায় ১৭ হাজার ৯০৫ জন, চাঁদপুরে ১৩ হাজার ৭৯৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ হাজার ৪৮ জন, লক্ষ্মীপুরে ৯ হাজার ৮০ জন এবং ফেনী জেলায় ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১১টি কেন্দ্রে ৮ হাজার ৬৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
পরীক্ষা শুরুর দিনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিনসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ জানান, এবার কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরসহ ছয় জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি কেন্দ্রে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নকল ও অনিয়মমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে বোর্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের আশপাশে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে নজরদারি ক্যামেরা সচল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বোর্ড থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যায়।
তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে মোমবাতি, চার্জলাইট এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :