বন্যার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

বন্যার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

ফাইল ফটো

টানা বৃষ্টি ও বন্যার মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা আয়োজনের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা মিরপুর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচির কারণে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীদের একটি দল ঢাকা কলেজের সামনে এবং আরেকটি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়।

এর আগে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিজ্ঞান গবেষণাগার মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা টিএসসি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হলে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে পুলিশও মোতায়েন রয়েছে।

আন্দোলনে ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী পানি ও কাদা পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ নৌকায় করেও পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে তারা শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন। তাদের দাবি ছিল, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং আবহাওয়া পরীক্ষার উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হোক। তবে তাদের দাবি আমলে নেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞানের প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্নের মান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, কঠিন প্রশ্ন নিয়ে তাদের আপত্তি নেই, তবে শিক্ষার্থীরা যে পরিস্থিতির মধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে, মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও সেই বাস্তবতা বিবেচনা করা উচিত।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা আট দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া, পরীক্ষা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন বন্ধ করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব দূর করা।

তাদের আরও দাবি, পদার্থবিজ্ঞানের প্রথম পত্রের ষষ্ঠ ও সপ্তম প্রশ্নে ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের যথাযথ নম্বর দিতে হবে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পুরো পাঠ্যক্রম অনুযায়ী তৈরি করা, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের প্রধান তিনটি দাবি হলো, পরীক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ভুল প্রশ্নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য নম্বর দেওয়া এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করা।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। একই দাবিতে বগুড়াতেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!