ছোট উদ্যোগেই রক্ষা পেতে পারে আমাদের রাস্তা

মোঃ আব্দুল মান্নান , ফুলপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

দেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরতলির অসংখ্য সড়ক স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় যাতায়াত—সবকিছুর জন্যই এসব সড়কের ওপর নির্ভরশীল মানুষ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই রাস্তার সামান্য ক্ষয় বা ভাঙনকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে সময়ের ব্যবধানে ছোট একটি সমস্যা বড় দুর্ভোগে পরিণত হয়।

বর্ষা মৌসুমে রাস্তার কিনারা ভেঙে যাওয়া বা মাটি সরে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এ অবস্থায় ভাঙনের শুরুতেই যদি স্থানীয়ভাবে অল্প কিছু মাটি ফেলে সাপোর্ট দেওয়া যায় কিংবা প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। কিন্তু দায়িত্বশীলতার অভাব, উদাসীনতা এবং ‘এটি সরকারের কাজ’—এমন মানসিকতার কারণে ক্ষয় বাড়তে বাড়তে একসময় পুরো সড়কই ঝুঁকির মুখে পড়ে।

সরকার প্রতিবছর সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। কিন্তু প্রতিটি রাস্তার প্রতিদিনের দেখভাল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই জনসম্পদের সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আমরা নিজেরা চলাচল করি, আমাদের সন্তানরা স্কুলে যায়, কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছায়—সেই রাস্তার প্রতি ন্যূনতম যত্ন নেওয়া নাগরিক দায়িত্বেরই অংশ।

সড়ক একবার বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামতে সময় লাগে, প্রয়োজন হয় নতুন বরাদ্দের। এ সময় পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অথচ শুরুতেই সামান্য উদ্যোগ নিলে সেই ক্ষতি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন জনসচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশ। রাস্তা শুধু সরকারের নয়, এটি জনগণেরও সম্পদ। তাই এই সম্পদ রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও যত্নশীল হওয়ার বিকল্প নেই।

Advertisement

Link copied!