বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান

আসাদুজ্জামান তালুকদার , নেত্রকোণা জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনার নান্দনিক জয়ের পর দেশের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং টিকটকে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, অভিনন্দন বার্তা, ছবি, ভিডিও এবং লাইভ সম্প্রচারে ভরে উঠেছে নিউজফিড। অনেকেই বিজয়ের আনন্দে মিছিল, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, আতশবাজি এবং বিভিন্ন উদযাপনের দৃশ্য প্রকাশ করছেন।

তবে এই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সংযম ও সচেতনতার আহ্বান জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আসাদুজ্জামান তালুকদার। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপ বা বড় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে অনলাইনে যেমন আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি অসচেতন আচরণ অনেক সময় বাস্তব জীবনে অপ্রীতিকর ঘটনা, সহিংসতা, সাইবার হয়রানি এবং প্রতারণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি লেখেন, একটি খেলার জয়-পরাজয় কখনোই ব্যক্তি বা সমাজে বিভেদ তৈরির কারণ হওয়া উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য, প্রতিপক্ষ সমর্থকদের হেয় করা, অশালীন ভাষা ব্যবহার কিংবা উসকানিমূলক পোস্ট অনেক সময় বাস্তব জীবনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

আসাদুজ্জামান তালুকদারের মতে, অতীতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ফুটবলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মারামারি, ভাঙচুর, এমনকি হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া ভুয়া লটারির লিংক, জার্সি উপহারের নামে ফিশিং, নকল লাইভ স্ট্রিমিং ওয়েবসাইট এবং ভুয়া অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আনন্দ প্রকাশ করা স্বাভাবিক, তবে এমন কোনো ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য প্রকাশ করা উচিত নয়, যা অন্যকে অপমানিত করে বা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে। একই সঙ্গে অপরিচিত লিংকে প্রবেশ, অচেনা অ্যাপ ডাউনলোড কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আবেগ অনেক গভীর। ফলে একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, কটাক্ষ ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এসব পোস্টের জের ধরে বাস্তব জীবনেও বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার নজির রয়েছে।

সচেতন মহলের অভিমত, খেলাধুলার মূল চেতনা হচ্ছে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য। তাই বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ, তথ্য যাচাই করে শেয়ার করা এবং উসকানিমূলক পোস্ট এড়িয়ে চলাই হতে পারে নিরাপদ ও ইতিবাচক অনলাইন পরিবেশ গড়ে তোলার অন্যতম উপায়।

Advertisement

Link copied!