নওগাঁর মান্দায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে এলসিএস কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে আবেদন গ্রহণ যাচাই-বাছাই এবং জনসম্মুখে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে এলসিএস কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মান্দার অধীনে দৈনিক মজুরিভিত্তিক লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) কিছু সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগে জন্য গত ৩০ জুন ২৬ তাং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানাযায়, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১৩৭ জন নারী আবেদন করেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই অন্ত ৫৪ জনের আবেদনপত্রের বৈধতা পাওয়া যায়। আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল ৮ জুলাই। এবং বিজ্ঞপ্তি পত্রের ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভাকক্ষে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিক ভাবে ১৬ জন নারীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। লটারিতে নাম ওঠা গণেশপুর গ্রামের এক সুবিধাভোগী নাসরিন জানান, আবেদন করেছিলাম লটারিতে নাম উঠছে। কাউকে কোন টাকা পয়সা দিতে হয়নি কাজ পেয়ে আমি খুশি।
উক্ত লটারিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আখতার জাহান সাথী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল, পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (প্যানেল) আতাউর রহমানসহ এলজিইডির কর্মকর্তা কর্মচারী ও আবেদনকারী গণ উপস্থিত ছিলেন। লটারি সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল বলেন আমিও সেখানে ছিলাম সকলের উপস্থিতি লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লটারি সময় নির্বাহী স্যার, চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল, চেয়ারম্যান (প্যানেল) আতাউর রহমান সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বাছাইকৃত আবেদনকারীদের মধ্যে স্বচ্ছ হবে লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানান, স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে এলসিএস কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নোটিশ বোর্ডে লটারির তারিখ ও সময় জানানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১৩৭ জন আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। সেখানে আবেদনকারীর বয়স সীমা, রাস্তার দূরত্ব, আবেদনের নির্ভুল তথ্যসহ নিয়ন্তান্ত্রিকভাবে বাছাই করে ৫৪ জনের আবেদনপত্র বৈধতা বিবেচিত করা হয়। এরপর যথাসময়ে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে ১৬ জনকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। তবে আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে যাচাই-বাছাইয়ে বাদপড়া কিছু আবেদনকারীদের উসকে দিয়ে মিথ্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণীত গুজব ছড়াচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি ইঞ্জিনিয়ার সাহেব ভালো জানেন ‘আমি লটারির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম, পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, প্রকৌশলী আব্দুল কাদের, কুসুম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল, পরানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান (প্যানেল) আতাউর রহমান তাঁরাও উপস্থিত ছিলেন। সকলের উপস্থিতিতে লটারি করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :