ইরান সংঘাতে দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম

ইরান সংঘাতে দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ

ফাইল ফটো

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে আসছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি চাপে পড়তে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একাধিক বিশেষজ্ঞ জানান, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে দূরপাল্লার নির্ভুল হামলা এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের বড় অংশ ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে, বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে, যা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করবে।

বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক পরিমাণে থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং টমাহক দূরপাল্লার হামলা চালানোর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাব বলছে, পূর্ণাঙ্গ সংঘাত শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র তার থাড ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সহজ হবে না। মার্ক ক্যানসিয়ানের ভাষ্য, বর্তমানে প্রতি মাসে মাত্র প্রায় ১৫টি টমাহক এবং ২০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হচ্ছে। আর আগামী বছর নতুন থাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহেরও তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় অস্ত্রের মজুদ ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এলেইন ম্যাককাসকার বলেন, অধিকাংশ ধরনের গোলাবারুদের মজুদ পুনর্গঠনে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এদিকে, অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন প্রয়োগ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

ইউক্রেন ও জার্মানির মতো দেশকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দ্রুত ফল দেবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাপানে প্যাট্রিয়ট উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করতে তিন বছর সময় লেগেছিল, আর জার্মানিতে এখনো উৎপাদন শুরু হয়নি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনী এখনো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীগুলোর একটি এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা বজায় রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন বা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধক্ষমতা এখনই বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েনি। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একই মাত্রায় অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশটির সামরিক প্রস্তুতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হতে পারে।

Link copied!