পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া

ফাইল ফটো

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দেশটির সংসদ তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদ ছাড়েন।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের সংসদে ৪০ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদের পদত্যাগপত্র অনুমোদন করা হয়। তবে সরকারের এই আকস্মিক পরিবর্তন নিয়ে কয়েকজন আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিদায়ী বক্তব্যে সভিরিদেঙ্কো বলেন, চলতি বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় পদক্ষেপের দাবি করেছে। দায়িত্ব পালনকালে যে আস্থা ও সহযোগিতা তিনি পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তার বিশ্বাস সব সময়ই ফলাফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এক বছর আগে তাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর কিছুদিন আগে দেশটির কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, প্রশাসনের শুদ্ধি কার্যক্রমে তিনি প্রত্যাশিত কঠোরতা দেখাতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন এবং সে জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এই রদবদলের বিস্তারিত কারণ তিনি প্রকাশ করেননি।

বিরোধী দল হোলোসের আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক বিদায়ী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে প্রতিদিনই নতুন উপস্থাপনা, সংবাদ সম্মেলন এবং দুর্নীতির মামলায় নতুন সন্দেহভাজনের খবর সামনে এসেছে।

সভিরিদেঙ্কোর পদত্যাগের ফলে ইউক্রেনের পুরো মন্ত্রিসভাই পদত্যাগ করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎস্কির নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান জ্বালানি মন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের নামও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনকে যুদ্ধকালীন অর্থনীতি পরিচালনা, অভ্যন্তরীণ নীতির বাস্তবায়ন এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

সভিরিদেঙ্কো জানিয়েছেন, নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্বগুলোর একটি হবে শীতকালীন প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। কারণ রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল আরাবিয়া

 
 

Link copied!