সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে প্রসূতিদের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করায় তুরস্কের পর্যটননগরী আন্তালিয়ায় শতাধিক চিকিৎসক ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি সতর্কবার্তা, অর্থদণ্ড, বিভাগীয় তদন্ত এবং বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের মতো ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার আন্তালিয়াভিত্তিক চিকিৎসকদের সংগঠন আন্তালিয়া চিকিৎসক পরিষদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসকদের মধ্যে কয়েকজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে এবং অনেককে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশে ক্রমহ্রাসমান জন্মহার মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সরকার পরিবার দশক নামে দশ বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। ওই কর্মসূচির আওতায় জরুরি স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন ছাড়া প্রসূতিদের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার নিষিদ্ধ করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল স্বাভাবিক প্রসবকে আরও বেশি উৎসাহিত করা।
সরকারি হিসাবে, তুরস্কে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া নবজাতকের প্রায় ৬১ দশমিক ৫ শতাংশের জন্ম সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হয়, যা ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
আন্তালিয়া চিকিৎসক পরিষদ জানিয়েছে, সিজারিয়ানের উচ্চহার কমিয়ে আনতে দেশজুড়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং প্রসবপূর্ব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে তুরস্কের চিকিৎসকদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা ডা. আয়েশে গুলতেকিনগিল সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, অতিরিক্ত সিজারের জন্য শুধু চিকিৎসকদের দায়ী করা ঠিক নয়। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যাও এর জন্য সমানভাবে দায়ী।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম বিরগুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান না করে কেবল চিকিৎসকদের শাস্তি দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, গত বছর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

আপনার মতামত লিখুন :