কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে তিন মার্কিন সেনাকে হত্যার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, কুয়েতে মোতায়েন করা মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সফল ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক সূত্রের বরাতে তারা দাবি করেছে, হামলায় তিন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ইরানের দক্ষিণ উপকূলে হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মোতায়েন করা হয়েছিল।
তবে ইরানের এ দাবির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড জানায়, কুয়েতে হামলায় মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হওয়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের দাবি, এ অঞ্চলে দায়িত্বে থাকা সব মার্কিন সেনার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে এবং কেউ হতাহত হননি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরও কুয়েতে এমন কোনো হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছে। তবে সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ যুদ্ধকালীন হতাহতের তালিকায় একজন মার্কিন নৌসেনার মৃত্যুর তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শত্রুপক্ষের হামলার কথা উল্লেখ না করে তদন্তাধীন বলে জানানো হয়েছে। তবে ওই সেনার মৃত্যু কুয়েতে হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার রাতভর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বন্দর আব্বাস, কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং বুশেহর প্রদেশের জাম শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ফার্স জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসের পশ্চিমাঞ্চলে একটি গোলা আঘাত হানলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একই সময়ে তাসনিম সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কয়েকটি নিয়মভঙ্গকারী জাহাজে ইরানি বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। পাশাপাশি বন্দর আব্বাসের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।

আপনার মতামত লিখুন :