ঝিনাইদহে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

ইলিয়াস হোসাইন , কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

ঝিনাইদহে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর এলাকায় মোছাঃ বিজলি খাতুন (২৭) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার সাফদারপুর পশ্চিমপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত বিজলি খাতুন কোটচাঁদপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের বকতার সর্দারের মেয়ে। তাঁর স্বামী মোঃ আক্তার উদ্দিন (পিতা: মোঃ কামাল উদ্দিন, গ্রাম: চৌগাছা, যশোর) সাফদারপুর গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় সেন্টার ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। দম্পতি সাফদারপুর পশ্চিমপাড়ার মৃত আলি মদ্দিন শেখের ছেলে মোঃ কামরুজ্জামানের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

বাড়ির মালিক মোঃ কামরুজ্জামান জানান, আক্তার ও বিজলি প্রায় এক বছর সাত মাস ধরে তাঁর বাসায় ভাড়া থাকছিলেন। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। পারিবারিক কোনো বিরোধ সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে আক্তার উদ্দিন কান্নাকাটি করতে করতে তাঁর দরজায় এসে জানান, তাঁর স্ত্রী রান্নাঘরের ফ্যানের রডে রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, রান্নাঘরে গিয়ে তিনি দেখেন, মেঝেতে চারটি চেয়ার সাজানো রয়েছে এবং ফ্যানের রডে একটি রশি ঝুলছে। তবে বিজলি খাতুনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় নয়, বরং দেয়ালের সঙ্গে বসানো অবস্থায় ছিল। তিনি দাবি করেন, তিনি মরদেহকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেননি। পরে বিষয়টি অন্য ভাড়াটিয়া ও স্থানীয়দের জানানো হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এটি বিজলি খাতুনের দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ এলাকায় তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল। পরে প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর আগে আক্তার উদ্দিনকে বিয়ে করেন।

ঘটনার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় না পাওয়া, মেঝেতে একাধিক চেয়ার সাজানো থাকা এবং অন্যান্য পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি, এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা হোক।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনসারুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।

Link copied!