২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনের সময় রাজধানীর রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়াকে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ অনলাইনে ১৫ জুলাই প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর ১৬ জুলাই এ আদেশ জারি হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সূত্র থেকে প্রাপ্ত ৯৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের একটি তালিকা এবং তাদের বর্তমান পদায়ন বিশ্লেষণ করে প্রতিদিনের কাগজ জানায়, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে বহাল রয়েছেন। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এসব কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, রাফে মোহাম্মদ ছড়া আন্দোলনের সময় ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আশুগঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনসংক্রান্ত সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বর্তমানে সচিবালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে নিকারুজ্জামান, এস এম মুনিম লিংকন, মো. আক্তারুজ্জামান, মোছা. আকলিমা বেগম, মইন উদ্দিন ইকবাল, আলমগীর কবীর, স্নেহাশীষ দাশ, সুজিৎ দেবনাথ, খন্দকার রবিউল ইসলাম, শেখ শামসুল আরেফিন, মেহেদী হাসান, সৈয়দ আশরাফুজ্জামান, দেবাংশু কুমার সিংহ ও মাসুদ রানার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, “জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রশাসনের দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হবে।” এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সরকারি সচিব গোলাম মোর্শেদ জানান, আজ ছড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, “ঘটনার সময় আমি ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলাম এবং সেদিন রাতে ডিউটির দায়িত্বে ছিলাম। ওই রাতে কোনো ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টির সাক্ষী হিসেবে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও রয়েছেন। প্রয়োজনে প্রযুক্তিগতভাবে বিষয়টি যাচাই করে এরপর সংবাদ প্রকাশ করলে ভালো হবে।”

আপনার মতামত লিখুন :