সিমসন ঘাট চালুর দাবিতে বুড়িগঙ্গায় মাঝিদের বিক্ষোভ

নাজিউল্লাহ ভূইয়া , কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

সিমসন ঘাট চালুর দাবিতে বুড়িগঙ্গায় মাঝিদের বিক্ষোভ

ফাইল ফটো

পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর ঐতিহ্যবাহী সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নৌকা মাঝিরা। শনিবার সকালে নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ রেখে কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ গুদারাঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মাঝিরা দ্রুত সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর পাশাপাশি সদরঘাট টার্মিনালের ৪ ও ৫ নম্বর পল্টুন অপসারণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ঘাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাত্রী পারাপার কমে গেছে। একই সঙ্গে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লিতে পাইকারদের যাতায়াতও হ্রাস পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে।

আন্দোলনরত মাঝিরা জানান, প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো সিমসন ঘাট বুড়িগঙ্গা নদীতে খেয়া পারাপারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাট। আগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকাররা এ ঘাট ব্যবহার করে সহজেই কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লিতে যাতায়াত করতেন। বর্তমানে ঘাটটি বন্ধ থাকায় তাদের ওয়াইজ ঘাট হয়ে ঘুরপথে আসতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পাইকার আগের মতো আসতে আগ্রহী নন।

মাঝিদের ভাষ্য, ঘাট বন্ধের কারণে তাদেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে। এতে শ্রম ও সময় দুটোরই ব্যয় বাড়লেও আয় কমে গেছে। ফলে অনেক মাঝি জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েছেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ঘাট মাঝি শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কিসলু বলেন, “সিমসন ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মাঝি ও ব্যবসায়ীরা। ঘাটটি চালু হলে যাত্রী পারাপার বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যও স্বাভাবিক হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কয়েকজন কর্মকর্তা লঞ্চ মালিকদের স্বার্থে একতরফাভাবে ঘাটটি বন্ধ করে দেন। এর ফলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মাঝিদের দাবি, ২০০৮ সালে একবার ঘাটটি বন্ধ করা হলেও ব্যবসায়ী ও মাঝিদের আন্দোলনের মুখে তা পুনরায় চালু করা হয়। পরে ২০২০ সালে আবার ঘাটটি বন্ধ করে সেখানে লঞ্চ রাখার জন্য পল্টুন স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে কালিগঞ্জ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নৌপথে যাত্রী পারাপার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বলে তারা অভিযোগ করেন।

এর আগে গত বুধবার একই দাবিতে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লির ব্যবসায়ীরাও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনকারীরা দ্রুত সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Link copied!