নাগেশ্বরীতে এসআই ইদ্রিস আলীর প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

আবু সাঈদ ইসলাম , নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

নাগেশ্বরীতে এসআই ইদ্রিস আলীর প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ফাইল ফটো

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে কথিত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নাগেশ্বরী থানা গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ‘ঘুষখোর ইদ্রিস আলীর প্রত্যাহার চাই’ স্লোগান দিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন মানববন্ধনকারীরা। মিছিলটি উপজেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়। পরে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর পৃথক দুটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের মাধাইখার কুমরিয়ারপাড় এলাকার একটি রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকশ পরিবার যাতায়াত করে আসছিল। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে রাস্তাটি পাকা করার জন্য মাপজোখ করা হলে স্থানীয় খলিল উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও মুকুল মিয়া মূল রাস্তা থেকে প্রায় ৮০ ফুট অংশ বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেন। এতে এলাকার হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয়রা একাধিকবার বসে রাস্তা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তা না খোলায় বাধ্য হয়ে পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা তৈরি করে চলাচল শুরু করেন বলে দাবি করেন তারা।এ অবস্থায় গত ১৭ মে হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে এমদাদুল হক, শামছুল হক, হাবিবুল ইসলাম ও আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগে রাস্তা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের গাছ কাটার দাবি করা হয়। পরে ১৩ জুন দুই বিঘা জমির প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের পাটক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগে এমদাদুল হক, শামছুল আলম, রেজাউল করিম ও আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ দুটির তদন্তভার নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলীর ওপর দেওয়া হয়। মানববন্ধনকারীদের দাবি, তদন্ত না করেই তিনি মামলা রেকর্ড করেন।মামলায় সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা এছাব উদ্দিনের ছেলে উকিল আমিন বলেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। তাকে সাক্ষী করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এসআই ইদ্রিস আলী মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে এলাকার লোকজনকে হয়রানি করতে আদালতের মাধ্যমে জারি করা নোটিশ গোপন রেখে আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করিয়েছেন। পরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। মামলার ভয়ে অনেকে স্ত্রী-সন্তান রেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন মানববন্ধনকারীরা।

এ সময় কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলাকারী হাফিজুল ইসলামের শাস্তির দাবি জানান তারা ,মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান স্বপন, স্থানীয় বাসিন্দা উকিল আমিনসহ অনেকে।

অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার এসআই মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “আমি দুই মাস আগে আদালতে প্রসিকিউশন দিয়েছিলাম। আদালত ওয়ারেন্ট জারি করেছে। আমি তিনজনকে ধরে কোর্টে পাঠিয়েছি। এখানে আমার কী করার আছে। আমি কোনো ভুল করিনি। তারা মানুষের গাছপালা কেটেছে। তারা আদালতে প্রমাণ করুক, ঘটনা মিথ্যা।

নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, “এসআই ইদ্রিসের বিরুদ্ধে যে মানববন্ধন হয়েছে, বিষয়টি মনে হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ও ঈর্ষান্বিত হয়ে করা হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!