কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে "জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্ব, নবজাতকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ এবং মাতৃদুগ্ধ পানবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে চিকিৎসক, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন বলেন, শিশুর সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পান করানো এবং জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অপুষ্টি প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
তিনি আরও বলেন, ছয় মাস বয়সের পর শিশুকে বয়স উপযোগী পরিপূরক খাবার দেওয়ার পাশাপাশি কমপক্ষে দুই বছর বা তারও বেশি সময় মাতৃদুগ্ধ পান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবার, সমাজ এবং কর্মক্ষেত্রে কর্মজীবী মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ পানবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা বলেন, মাতৃদুগ্ধ শুধু শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করে না, বরং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং মা ও শিশুর মধ্যে গভীর মানসিক বন্ধন গড়ে তোলে। তাই মাতৃদুগ্ধ পান বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসম্মত চর্চা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন :