নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচান ,মাদককে বিদায় জানান এবং যুব সমাজ রক্ষা কর, মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাং বয়কট কর",এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৫নং দক্ষিণ ঝলম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মির্জাপুর পূর্বপাড়ায় সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে এক ব্যতিক্রমধর্মী সচেতনতামূলক আলোচনা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে ৮নং ওয়ার্ড (মির্জাপুর পূর্ব) বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, সমাজসেবক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, অভিভাবক, তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় তিন শতাধিক সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। এলাকার সামাজিক অবক্ষয় রোধে এমন ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ৮নং ওয়ার্ড (মির্জাপুর পূর্ব) বিএনপির সভাপতি মো. ওমর ফারুক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক নুরুননবী চৌধুরী সেলিম। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম হাসান অপু।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫নং দক্ষিণ ঝলম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা। প্রধান বক্তা ছিলেন মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রাশেদ।
এছাড়াও বক্তব্য দেন মাস্টার দেলোয়ার হোসেন, মাস্টার শাহ জামাল, হাফেজ মো. ছানাউল্লাহ নুরী, মো. মিজানুর রহমান, নুর মোহাম্মদ, নুরুননবী সওদাগর নোভেল, পল্লি চিকিৎসক আবু ইউছুফ, শহীদ উল্লাহ ব্যাপারী, সফিকুল ইসলাম মোল্লা, আনোয়ার হোসেন, ছালামত উল্লাহ, আমিনুল হক, স্বপন মিয়া, জসিম উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন ও সুজন চন্দ্র সূত্রধর।
বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ এবং মোবাইল আসক্তির মতো সামাজিক ব্যাধি বর্তমানে পরিবার ও সমাজের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এসব অপরাধ ও অপসংস্কৃতি থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই হবে এসব সমস্যা মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলেও মত দেন তারা।
সভায় বক্তারা অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন, মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় ব্যয়ের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—এলাকার দোকানপাটে মোবাইল গেম, ক্যারাম বোর্ড, তাস, লুডু ও চক্কাসহ বিভিন্ন ধরনের আড্ডাভিত্তিক খেলা বন্ধ করা, সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় রাস্তাঘাটে চলাফেরা নিরুৎসাহিত করা, বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকায় বিদ্যালয় শুরুর আগে ও ছুটির পরে বখাটেদের অবস্থান কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা এবং মাদক সেবন, বিক্রি কিংবা এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতাকারীদের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস না করে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়াও প্রতিটি মহল্লায় সামাজিক নজরদারি জোরদার, কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা আয়োজন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।বক্তারা বলেন, একটি নিরাপদ, সুস্থ, মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিক ঐক্য ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে মাদক, জুয়া, কিশোর গ্যাং এবং অন্যান্য অপরাধ অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সভার শেষে উপস্থিত সবাই গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে সমাজকে আরও নিরাপদ ও সুন্দর করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :