ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল (সোমবার) নতুন ও পুরাতন রোগী মিলিয়ে মোট ১৯ জনকে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। আজও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত বেশ কয়েকজন চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে পথকুকুর ও গৃহপালিত বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড়ের ঘটনা বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণীর কামড়কে গুরুত্ব না দিয়ে প্রাথমিকভাবে অবহেলা করা হলেও পরে জটিলতার আশঙ্কায় চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসছেন রোগীরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় কিংবা আঁচড় লাগলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীর কামড় বা আঁচড় লাগার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত স্থান কমপক্ষে ১৫ মিনিট ধরে সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রেবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জনসাধারণকে কুকুর ও বিড়ালের সংস্পর্শে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের একা বাইরে খেলাধুলার সময় নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পথপ্রাণীদের উত্যক্ত না করা এবং অস্বাভাবিক আচরণ করা প্রাণী থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমেই জলাতঙ্কের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই কোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা ঘটলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :