অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ফটিকছড়ির ১০ জামায়াত নেতার জামিন

কামাল উদ্দীন চৌধুরী , ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ফটিকছড়ির ১০ জামায়াত নেতার জামিন

ফাইল ফটো

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের করা অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির, সাবেক আমির ও সেক্রেটারিসহ ১০ নেতাকে জামিন দিয়েছে আদালত।

৪ আগস্ট চট্টগ্রামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মামলার ১০ আসামি। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।এর আগে গত ২২ জুলাই ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি করেন ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৬৫, ৩৪২, ৫০৬(২), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২০ জুলাই উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে একদল ব্যক্তি বাদীর ওপর হামলা চালান। পরে তাঁকে জোর করে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ২১ জুলাই রাত প্রায় ৩টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় ভবিষ্যতে এ ধরনের ফেসবুক পোস্ট বা মন্তব্য না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন ,ফটিকছড়ি পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন রুবেল, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের নেতা রেজাউল করিম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু, সাবেক আমির নাজিম উদ্দিন শিকদার, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইউছুপ বিন সিরাজ, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি আবু জাফর, পৌর জামায়াতের নেতা কাজী মোহাম্মদ লোকমান, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ রায়হান ও মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, বাদী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হলে, উভয় পক্ষকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়।

তাদের দাবি, কাউকে অপহরণ, অবৈধভাবে আটকে রাখার মতো  কোনো ঘটনা ঘটেনি।বাদি কারো প্ররোচনায় উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে মামলাটি করেন বলে মনে করেন তারা। তবে মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, তাকে আটকে রেখে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। 

Link copied!