জলঢাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির তদন্ত বাঁধাগ্রস্ত করতে সুপারের কৌশলগত টাইম পিটিশনের আবেদন

জলঢাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির তদন্ত বাঁধাগ্রস্ত করতে সুপারের কৌশলগত টাইম পিটিশনের আবেদন

ফাইল ফটো

নীলফামারীর জলঢাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির তদন্ত বাঁধাগ্রস্ত করতে সুপারের কৌশলগত টাইম পিটিশনের আবেদন উপজেলার লক্ষীমাড়াই আহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষককে বিধিবহির্ভূত ভাবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে শুরু হওয়া তদন্ত কার্যক্রমের আগেই সময়

চেয়ে মাদ্রাসার সুপারের আবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন করে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মাদ্রাসাটিতে অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে নির্বাচনী তফসিল ও নীতিমালা অনুসরণ না করে, দাতা সদস্যদের যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষককে সভাপতি ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠন করা হয়। এ ঘটনায় দাতা সদস্য ও অভিভাবক সদস্যরা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নামে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক তদন্তপত্রে জলঢাকা উপজেলার লক্ষীমাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পারভীন আক্তার এবং রাজবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূত ভাবে মাদ্রাসার কমিটিতে সভাপতি ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্মারক নম্বর: জেপ্রাশিঅ/নীল/২০২৬/৮২৫/১(২)। এরপর ২৩ জুলাই জেলা প্রশাসক উপ-পরিচালকের নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ৩০ জুলাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটিতে নাম থাকা সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য আরেকটি তদন্তপত্র জারি করেন।

স্মারক নম্বর: উপ্রশিঅ/জল/নীল/২০২৬/৬০৬। জানা গেছে, তদন্তপত্র সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, অভিযোগকারী, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক এবং মাদ্রাসার সুপারকে অফিস থেকে সংগ্রহ করতে বলা হলেও অন্য সবাই তদন্তপত্র গ্রহণ করলেও মাদ্রাসার সুপার কবির উদ্দীন তা গ্রহণ করেননি। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের আগে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিতের জন্য আবেদন করেন। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, নির্ধারিত তদন্ত কার্যদিবসের মাত্র একদিন আগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ২৫ দিনের সময় চেয়ে একটি টাইম পিটিশন দাখিল করেন সুপার কবির উদ্দীন। পরে আবেদনটি মঞ্জুর করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে জানান তদন্তের আগের দিন সুপার কবির উদ্দীন ২৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনটি মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে বিষয়টি আমার কাছেও রহস্যজনক। কারণ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই দুই সহকারী শিক্ষক কোনো সময় চাননি বরং সুপার নিজেই তদন্ত স্থগিতের আবেদন করেছেন। পরবর্তী তদন্তে আর এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হবে না। দাতা সদস্য মাহাবুবুর রহমান (মিস্টার) বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তদন্ত কার্যক্রম যেন কোনো ভাবেই বিলম্বিত না হয়, সেটিই আমরা চাই।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে ব্যবহার করে বিধিবহির্ভূত ভাবে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তর তদন্ত শুরু করার পর থেকেই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া এক শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও সুপার কবির উদ্দীনকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে লক্ষীমাড়াই আহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার কবির উদ্দীন বলেন, তদন্তের একদিন আগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সময় চেয়ে আবেদন করেছি।

কী কারণে সময় চেয়েছেন, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা হবে, বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, লক্ষীমাড়াই আহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার কর্তৃক এমন কর্মকান্ডের কথা আমার জানা ছিল না। তদন্ত চিঠি করা হয়েছিল প্রতিবেদন এখনো আসেনি। ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তার তদন্ত সময় মতো করবেন। তবে মাদ্রাসার সুপারের অনুরোধে তদন্ত কর্মকর্তা কিছুটা সময় নিয়েছেন। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

সিয়াম সরিষা
Link copied!