কাশিমপুর পাম্প হাউস বন্ধে রাজনগরের ৬ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা আমন চারা ও মাছের ব্যাপক ক্ষতি, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

মোঃ আব্দুস সামাদ আজাদ , মৌলভীবাজার জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

কাশিমপুর পাম্প হাউস বন্ধে রাজনগরের ৬ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা আমন চারা ও মাছের ব্যাপক ক্ষতি, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ফাইল ফটো

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণাধীন রাজনগরের কাশিমপুর পাম্প হাউস নিয়মিত চালু না থাকায় উপজেলার কাউয়া দীঘি হাওরপাড়ের ৬টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ১০-১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওরের ইজারাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসৎ যোগসাজশে পাম্প হাউস থেকে নিয়মিত পানি নিষ্কাশন না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২০-৩০ একর জমির নতুন আমন চারা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া অর্ধশতাধিক মৎস্য খামার প্লাবিত হয়ে মাছ ভেসে যাওয়ায় প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ফতেহপুর, উত্তরভাগ, মুন্সিবাজার, পাঁচগাঁও, রাজনগর ও মনসুরনগর ইউনিয়নের অন্তত ১০-১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও দুটি দাখিল মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাউয়া দীঘি হাওরের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও কাশিমপুর পাম্প হাউসটি নিয়মিত চালু রাখা হয়নি। ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি এবং নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও মৎস্য প্রকল্প পানিতে তলিয়ে গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন পাম্প চালানো হচ্ছে। এতে হাওরের পানি নিষ্কাশনে চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুপানি ও কাদা মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।সাবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চয়ন চন্দ বলেন, “জলাবদ্ধতায় বিদ্যালয়ে আসার রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।”

হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব এম খসরু চৌধুরী বলেন, “কাশিমপুর পাম্প হাউসের অপারেটর নিয়মিত পানি সেচের বিষয়ে মিথ্যাচার করছেন। তারা সবগুলো পাম্প ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার দাবি করলেও বাস্তবে দুই-তিনটি পাম্পও তিন-চার ঘণ্টার বেশি চালানো হয় না।”এদিকে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে হাওরপাড়ের কৃষকদের উদ্যোগে আগামী ৬ আগস্ট প্রতিবাদী কৃষক সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।তবে এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিয়াম সরিষা
Link copied!