রোবটের দৌড়, তরুণ মেধার জয়গান: কালিয়াকৈর হাই-টেকে ‘রোবোফিউশন ১.০’ উৎসবে পাঁচ বিভাগে ১৬৬ দলের প্রতিযোগিতা

তুষার আহম্মেদ , কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

রোবটের দৌড়, তরুণ মেধার জয়গান: কালিয়াকৈর হাই-টেকে ‘রোবোফিউশন ১.০’ উৎসবে পাঁচ বিভাগে ১৬৬ দলের প্রতিযোগিতা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে শনিবার (৮ আগস্ট) রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’। ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) রোবোটিক্স ক্লাব আয়োজিত দিনব্যাপী এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবকেরা অংশ নেন। পাঁচটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে মোট ১৬৬টি দল নিজেদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

সকাল ১১টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএফটিবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া। সম্মানিত অতিথি ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া, ওয়ালটনের এএমডি মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।

উৎসবে লাইন ফলোয়িং রোবট (এলএফআর), রোবো সকার, টেকাথন, প্রজেক্ট শোকেস ও বোট রেসিং—এই পাঁচটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে প্রজেক্ট শোকেসে ৬৫টি, টেকাথনে ৩৫টি, এলএফআরে ৩৩টি, রোবো সকারে ২০টি এবং বোট রেসিংয়ে ১৩টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তরুণেরা নিজেদের তৈরি রোবট, প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন করেন। বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তুলে ধরার পাশাপাশি রোবট নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সক্ষমতা প্রদর্শন করেন তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের তরুণদের শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হলে চলবে না, তাঁদের উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার তরুণদের পাশে থাকবে। তিনি আরও বলেন, রোবোটিক্স শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শিল্প, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা থেকে শুরু করে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের ভবিষ্যতের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

ইউএফটিবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী বলেন, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে তার সমাধান করার সক্ষমতা তরুণদের মধ্যে তৈরি করা প্রয়োজন। ‘রোবোফিউশন’-এর মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ করে দিচ্ছে। উৎসবের আহ্বায়ক আশিকুচ্ছালেহীন বলেন, তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণ উদ্ভাবকেরা নিজেদের দক্ষতা যাচাই করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার প্রস্তুতি নিতে পারবে।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন দেশের তরুণ প্রজন্মকে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তির প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!