ইয়াসিনের মৃত্যুর পর ক্ষোভের বিস্ফোরণ: ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসনের আশ্বাসে প্রত্যাহার

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

ইয়াসিনের মৃত্যুর পর ক্ষোভের বিস্ফোরণ: ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসনের আশ্বাসে প্রত্যাহার

একজন শিক্ষার্থীর প্রাণ গেলেই যেন টনক নড়ল প্রশাসনের। নিরাপদ সড়ক পারাপারের দাবিতে গাজীপুরের গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। শনিবার সন্ধ্যায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী (১৭) নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রোববার সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় এ অবরোধ।

সাড়ে তিন ঘণ্টার অবরোধে কার্যত অচল হয়ে পড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওই অংশ। দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। আটকা পড়ে হাজারো যানবাহন। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুরে মাদরাসা ক্যাম্পাসে ছুটে যান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নূরুল করীম ভূঁইয়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় তারা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, স্পিড ব্রেকার স্থাপন ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নূরুল করীম ভূঁইয়া বলেন, গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ডে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়নের জন্য রোববারই (০৯ আগস্ট) একটি কমিটি গঠন করা হবে। এতে জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মাদরাসার অধ্যক্ষ এবং দুজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকবেন। নিহত ইয়াসিনের পরিবারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার আরও বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের হাতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হবে। সোমবারই ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদরাসার দুই পাশে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি। মহাসড়কে বাড়বে ট্রাফিক পুলিশ ,নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে মাদরাসার উভয় পাশে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

তিনি বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অসমাপ্ত বিআরটি প্রকল্পের কারণে প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওই এলাকায় নিরাপদে পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ইয়াসিনের মৃত্যুর পর তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে আপাতত অবরোধ প্রত্যাহার করলেও ঘোষিত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, আর কোনো ইয়াসিনকে যেন মহাসড়ক পার হতে গিয়ে প্রাণ দিতে না হয়।

সিয়াম সরিষা
Link copied!