গাজীপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি শরীফ ওমর টুটুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় গাছা থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। শনিবার রাতে রেকর্ড হওয়া মামলায় গাছা থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হামিদ মন্ডলকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে গাজীপুর সাংবাদিক সমাজে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শরীফ ওমর টুটুল অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থানকালে খবর পান, গাছা থানাধীন ডেগেরচালা ফকির মার্কেট এলাকার একটি পোশাক কারখানা থেকে ঝুট বের করাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া চলছে। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সেখানে কয়েকজনকে রামদা, ছেন, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, স্টিলের পাইপ ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিক টুটুল মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় হামিদ মন্ডলের হুকুমে তার ছেলে ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা সোহেল ধারালো রামদা দিয়ে টুটুলের মাথা লক্ষ্য করে পরপর দুটি কোপ দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
এরপর অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথা, পিঠ, হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে। মামলায় হামিদ মন্ডল ছাড়াও ৩২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, যুবলীগ নেতা সোহেল, আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন, গাছা থানা ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর হোসেন, রাসেল রানা, নাদিম, মিন্টু খা ও আলমাস খানকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ইসমাইল হোসেন লোহার রড দিয়ে টুটুলকে মারধর করেন এবং আমজাদ হোসেন তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। আলমগীর হোসেন টুটুলের হাতে থাকা স্যামসাং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
টুটুলের চিৎকারে অন্য সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক এক বিবৃতিতে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবশালী পরিচয়ের কারণে এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না।
তিনি হামিদ মন্ডলসহ মামলার নামীয় আসামি ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান। খায়রুল আলম রফিক বলেন, “সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।” তিনি একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং আহত সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন :