কুমিল্লায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৬৬৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। একই অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও মাদকসেবীসহ মোট ৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি দিকনির্দেশনায় এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের সকল থানার উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে মোট ৪৫টি মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মোট ৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের পাশাপাশি মাদকসেবীদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ সরবরাহ ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রযোজ্য আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদকবিরোধী অভিযানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সরবরাহকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি মাদকমুক্ত ও নিরাপদ কুমিল্লা গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ নাগরিকদের মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।কুমিল্লা জেলা পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের বিশেষ অভিযান আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের এ অভিযানের ফলে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আরও গতি আসবে এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মাদক নির্মূলে আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রতিরোধই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত কুমিল্লা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :