হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের পরিবার, দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি

মোঃ জিয়া উদ্দিন , ফেনী জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের পরিবার, দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি

ফাইল ফটো

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন বিচারক। রায়ে চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটির রায় দেয়। রায়ে মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই বছরের ২৯ অক্টোবর নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এই প্রক্রিয়াটি ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হাইকোর্টে আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেন। 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা তার অফিসে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। পরদিন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার সোনাগাজী মডেল থানায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ সেদিনই তাকে গ্রেপ্তার করে। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, শ্লীলতাহানির মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অনুগতরা ক্ষিপ্ত হন। ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বোরকা পরা পাঁচ দুর্বৃত্ত তার হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।  

দগ্ধ করার ঘটনার পর নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সোনাগাজী থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে এজহারভুক্ত আট আসামির সঙ্গে আরো আটজনকে যুক্ত করে মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নুসরাতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাইকোর্টের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। নুসরাতকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই বিচার প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আজকের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় আমরা মনে করছি, নুসরাত হত্যার বিচার পাওয়ার পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। তবে নুসরাতকে আমরা আর ফিরে পাব না এই কষ্ট ও শূন্যতা আমাদের পরিবারের মধ্যে সবসময়ই থাকবে। আমরা চাই, উচ্চ আদালতের এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক এবং নুসরাত হত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত হোক।

Link copied!