রেলওয়ের মহাপরিচালকের পিএসের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

রেলওয়ের মহাপরিচালকের পিএসের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ

ফাইল ফটো

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, তথ্য গোপন করে বিয়ে, যৌতুক দাবি এবং মানসিকভাবে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী সাইদা পারভীন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে মো. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাইদা পারভীন (পিতা: মো. আতিয়ার রহমান, সাং: আটঘরিয়া লাইব্রেরি বাজার, থানা ও জেলা: পাবনা)-এর পরিচয় ছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে তাঁদের ধর্মীয় বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় এবং ০১ জুন ২০২৬ তারিখে তা আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি করা হয়।

​অভিযোগকারী সাইদা পারভীন উল্লেখ করেন, বিয়ের পূর্বে নাসির উদ্দিন তাঁর ব্যক্তিগত ও পূর্বের বৈবাহিক জীবন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন। তিনি নাসির উদ্দিনের তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে জানতে পারেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই অভিযুক্ত কর্মকর্তা বদলে যান এবং বিভিন্ন অজুহাতে ৩০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন। দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর মানসিক নির্যাতন, অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অমানবিক আচরণ শুরু করা হয়।

​লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিগত ২৫ মে ২০২৬ তারিখ থেকে মোবাইল ফোন, WhatsApp, Messenger-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সাইদা পারভীনকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, চরিত্রহনন ও হুমকি প্রদান করে আসছেন। এসব ঘটনার অডিও, ভয়েস রেকর্ড ও স্ক্রিনশটসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন। এছাড়া কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে ভুক্তভোগীকে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগও উঠে এসেছে।

​ভুক্তভোগী সাইদা পারভীন জানান, একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে নাসির উদ্দিনের এ ধরনের আচরণ সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির পরিপন্থী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী।

​অভিযোগের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটির একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্তকালীন সময়ে যেন ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার কোনো প্রকার হুমকি বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Link copied!