‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকার ফেসবুক পেজ হ্যাক, ব্ল্যাকমেইলিং ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলায় পত্রিকাটির সাবেক মফস্বল সম্পাদক মো. আনিসুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আনিসুর রহমান। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবির। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন।
মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-১০। পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে আনিসুর রহমান (৩৮)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার বাওকপালিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনিসুর রহমান ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর ডিজিটাল বিভাগের ফেসবুক পেজ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি সম্পাদককে জানান, পত্রিকার ফেসবুক পেজটি হ্যাক হয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি অফিসে আসা বন্ধ করে দেন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে হ্যাক হওয়া ফেসবুক পেজটি ব্যবহার করে পত্রিকার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মানহানিকর ভিডিও আপলোড করা হতে থাকে।
এরপর ২০২৬ সালের ৯ মার্চ রাত ১০টা ৪৭ মিনিটে আনিসুর রহমান ফোন করে হ্যাক হওয়া ফেসবুক পেজটি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ ১২ মার্চ একাধিক মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ থেকে কল করে টাকা দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর আনিসুর রহমান পলাতক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে ডিএমপির ডিবি সাইবার ইউনিটের এসআই রেজাউল করিম জানিয়েছেন, আসামি আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় মামলা করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :