খুলনায় দায়িত্ব পালনকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা এক পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার বিষয়টি উল্লেখ করে দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা সোনালী সেন খুলনায় দায়িত্ব পালনকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছেন। সম্প্রতি তার পদোন্নতির খবর সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট খুলনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মামলায় তৎকালীন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন, খুলনা সদর থানার সাবেক ওসি আশরাফুল ইসলাম এবং উপপরিদর্শক মনিরকে আসামি করা হয়।
মামলাটি খুলনা মহানগর হাকিম আনিচুর রহমানের আদালতে দায়ের করেন নিহত বিএনপি নেতা বাবুল কাজীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৯ মার্চ খুলনার কেডি ঘোষ এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি বাবুল কাজী। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ দিন পর তার মৃত্যু হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমান তুষার জানিয়েছিলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পদোন্নতি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও মামলা থাকলে পদোন্নতির আগে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা উচিত।
তারা বলেন, “একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, অন্যদিকে হত্যা মামলায় আসামি থাকা অবস্থায় পদোন্নতি—এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা পদোন্নতির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :