ঘিওরে ব্ল্যাকমেইল করে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

ঘিওরে ব্ল্যাকমেইল করে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ফাইল ফটো

মানিকগঞ্জের ঘিওরে প্রয়াত সাইদ পাগলের গানের আসরকে কেন্দ্র করে এক যুবককে ব্ল্যাকমেইল ও তার পরিবারকে জিম্মি করে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে জোরপূর্বক ওই যুবকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে বসিয়ে রেখে তিন দিন ধরে সামাজিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টির পর এই অর্থ আদায় করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ঘিওর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাসুদেববাড়ি গ্রামে আয়োজিত গানের অনুষ্ঠানে যান মানিক শেখের ছেলে রাব্বি হোসেন (২২)। সেখানে লুৎফরের মেয়ে বর্ষা নামের এক কিশোরী তাকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্য পরিকল্পিতভাবে অপর এক কিশোরীর সঙ্গে রাব্বির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ধারণ করে এবং অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে দেয়।

অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও ধারণের পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিশোরীটিকে টেনে-হিঁচড়ে যুবকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিয়ের দাবিতে বসিয়ে রাখা হয়। তিন দিন জিম্মি দশা ও নানামুখী মানসিক চাপ সৃষ্টির পর, ৪ সেপ্টেম্বর রাতে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করে কিশোরীকে সরিয়ে নেয় চক্রটি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। উপস্থিত এলাকাবাসী ও পুলিশের সামনে কিশোরীটি স্বীকার করে যে, যুবকের কোনো দোষ ছিল না। তাকে জোর করে ওই বাড়িতে নেওয়া হয়েছিল এবং পরদিন সকালে বের হতে গেলে তার নানি পুনরায় তাকে সেখানে রেখে আসেন। কিশোরীটি আরও জানায়, গানের আসর থেকে একদল কিশোর জোরপূর্বক ভিডিও বানিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে যুবকের বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

অভিযুক্ত কিশোরদের একজন চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করলেও অন্যান্য আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সামনে অভিযুক্তদের ভাড়াটে লোকজন কিশোরীর মামা লুৎফর ও জসিমের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) সালাম জানান, দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে আপস করে নিয়েছে। তবে ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে ব্যবহার করে জিম্মি দশা তৈরি এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা চক্র ও 'গডফাদার'দের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সিয়াম সরিষা
Link copied!